Saturday, January 14, 2023

ফতুল্লায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাড়ির সামনে বোমা বিস্ফোরণ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ মির হোসেন মিরুর বাড়ির গেইটে রাতের অন্ধকারে তালা মেরে হাত বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দূর্বৃত্তরা।  শনিবার (১৪ জানুয়ারি) রাত দুইটার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার কুতুবপুর শাহি মহল্লাস্থ মিরুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ভোরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরিত হাত বোমার আলামত উদ্ধার সহ এলাকাবাসীর সহায়তায় গেইটের তালা ভেঙ্গে ফেলে।


এ বিষয়ে কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মির হোসেন মিরু জানায়, স্থানীয় সন্ত্রাসী লিমন, ইমরান ও চাঁদ সেলিমের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়। রাতের অন্ধকারে তারা সদল বলে তার বাড়ীর গেইটে তালা মেরে হাত বোমার বিস্ফোরনের ঘটনা ঘটায়।

 

পুলিশ এসে বিস্ফোরিত হাত বোমার আলামত সংগ্রহ করে নিয়ে যায় একই সাথে গেইটের তালা ভেঙ্গে অবরুদ্ধ থেকে উদ্ধার করে। তিনি আরো বলেন এ বিষয়ে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।


ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্ফোরিত বোমার আলামাত সংগ্রন করেন। এবং স্থানীয়বাসীর সহায়তায়  মিরুর বাড়ীর গেইটের তালা ভাঙ্গেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

রূপগঞ্জে বাণিজ্য মেলায় কোটি টাকার পরী!

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ পূর্বাচলে ৪ নং সেক্টরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (ডিআইটিএফ) চলছে। মেলাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের এক ধরণের অন্যরকম এক আর্কষণ থাকে। এবারের আকর্ষণ কে আরো বাড়িয়ে তুলেছে পরী পালঙ্ক!


এটি কোনো কাল্পনিক গল্পের কোনো পরী পালঙ্ক নয়। এবারে বাণিজ্য মেলায় ৪২ নং স্টলে ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ তারা পরী পালঙ্ক নামে একটি খাট প্রদর্শন করছেন যার মূল্য ধরা হয়েছে এক কোটি টাকা। এই দৃষ্টিনন্দন পরী পালঙ্কটির সেগুনের কাঠ দিয়ে কারুকার্য করা। যার চার কোনায় বড় বড় চারটি পরী ও মাঝারি চারটি পরী খাটটির দুই প্রান্তে রয়েছে আটটি ছোট ছোট পরী মোট ১৬ পরী।


বড় চার পরীর হাতে রয়েছে চারটি প্রজাপ্রতি, কানে দুল, গলায় মালায়। ওই চারটি পরীর মাথার ওপর থেকে পরষ্পরের সঙ্গে সংযুক্ত কাঠের ফ্রেম। খাগড়াছড়ির গুইমারা ইউনিয়নের মুসলিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি মো আবু বক্কর (৩৫) খাটটি তৈরি করেছেন। খাটটি তৈরি পর থেকে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহুর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় খাটটি।


 খাটটি বাণ্যিজ মেলায় আসার পর ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা সরাসরি একজ নজর দেখার জন্য স্টলটির সামনে এসে ভিড় করেছে কেউ বা ছবি তুলে নিচ্ছে। এখাটটি বানিয়েছেন খাগড়াছরির জেলার গুঁইমারা উপজেলা শহরের মো. নুরুন্নবী। 


মূলত শখের বসে কাঠমিস্ত্রি আবু বক্করকে দিয়ে খাটটি বানিয়েছেন তিনি। খাটটি  তার বানাতে সময় লেগেছে ৩ বছর ২ মাস। এটি তৈরি করতে কাঠ লেগেছে প্রায় ১০০ ঘনফুট। পারিশ্রমিক বাবদ তারে দেওয়া হয়েছে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খাটটি সম্পূর্ণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ লাখ টাকা।


আবু বক্কর কিশোর বয়সে কাঠের শ্রমিক হিসাবে কাজ শুরু করে । তারপর দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে  এখন তিনি গুইমারাতে কাঠমিস্ত্রি হয়ে কাজ করছেন।


ফাতেমা এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো নূরন্নবী জানান  শখের বসে খাটটি বানিয়েছি। সম্পূর্ণ হাতে খোদায় করে পরী পালং খাটটি বানানো। বাণিজ্য মেলায় পরী পালঙ্ক দেখতে অনেকে স্টলের সামনে ভিড় করছে কেউ ছবি তুলছেন।  ইতি মধ্যে ৭০ লাখ টাকা বলেছেন।


আমি এক কোটি টাকা হলে খাটটি বিক্রি করবো। খাটটি যিনি নিবেন তার জন্য উপহার হিসাবে থাকবে এফজেট নতুন ভার্সন মোটরসাইকেল ও ১০গ্রাম ওজনের স্বর্ণলংকার এবং কপিরাইট সত্যায়াতি সার্টিফিকেট।

বেদে পল্লীতে শ্লোগানের শীতবস্ত্র বিতরণ

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সুবিধাবঞ্চিত বেদে পল্লীতে ৩৫ টি পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সামাজিক সংগঠন শ্লোগান। শনিবার দুপুরে বন্দরের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের দুর্গম চর ধলেশ্বরী এলাকায় এই শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।

 

শীতবস্ত্র বিতরণকালে শ্লোগানের সভাপতি মীর ছিবগাতুল্লাহ ত্বকী বলেন, 'এই বছর আমরা তিন দফায় শীতার্ত মানুষের পাশে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি।

 

শহরের ছিন্নমূল মানুষের পাশে অনেক সহায়তা এলেও দুর্গম ও গ্রামীন অঞ্চলে সহায়তা দিতে কেঁউ আসে না। আমরা সেই পথটিই বেঁছে নিয়েছি এবং বেদেপল্লীর মানুষকে এই শীতে উষ্ণতা দিতে চেয়েছি।'

 

শীতবস্ত্র বিতরণকালে আরও উপস্থিত ছিলেন, ত্রান ও সহায়তা সম্পাদক সবুর হোসাইন, নির্বাহী সদস্য সাবিত আল হাসান, সাইফুল ইসলাম সাগর, সদস্য লিমন, সানি, তুহিন, হাসান, মামুন, তানভীর, নিপুন প্রমুখ।

বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোনারগাঁয়ে জামায়াত ইসলামির বিক্ষোভ

সরকার আবারও নতুন করে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। তার প্রতিবাদে ও জামায়াতসহ রাজনীতিক নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামি।


শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে কাঁচপুর ফ্লাইওভারের নিচ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে মুরা পাড়া এলাকায় গিয়ে বিক্ষোভ মিছিল শেষ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।

 

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ  জেলা সেক্রেটারি মোঃ জাকির হোসাইন ও প্রফেসর মোহাম্মদ আলী খান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সকল থানা ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের জনগণ।


সভায় বক্তারা বলেন, ইসলামবিরোধী গণ বিরোধী আওয়ামী ফ্যাসিস্ট জনবিচ্ছিন্ন সরকার আবারো বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করে শেষ মূহুর্তে দেশকে লুটপাট করতে চায়। দেশের জনগণ তা মেনে নিবে না।

অবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে পালান, না হয় -জনগণ আপনাদেরকে উচিৎ শিক্ষা দিবে। পালানোর পথ খুজে পাবেন না।

সিদ্ধিরগঞ্জের ধর্ষণ মামলার পলাতক দুই  আসামি কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি ধর্ষণ মামলার পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- সিদ্ধিরগঞ্জের পগাদনাইল, উত্তর পাঠানটুলি রোড, বাসস্ট্যান্ড এলাকার আলাউদ্দিনের ছেলে ধর্ষক মো. শফিকুল ইসলাম রিফাত (২১) ও আসমা বেগম (৪০)।

 

শনিবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ থানাধীন খেজুরবাগ এলাকায় অভিযান তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১১। 


র‌্যাব-১১’র উপ-পরিচালক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,  ধর্ষণের ঘটনার মামলার পর আসামী ও তার পরিবার আত্মগোপনে চলে যায়।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


জানাগেছে, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে আসামি শফিকুল ইসলাম রিফাতের সাথে ভিকটিম খাজিদা আক্তারের পরিচয় হয়। তারপর তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথাবার্তা চলতে থাকে।

 

এরই মধ্যে আসামি রিফাত ভিকটিমকে বিয়ে প্রস্তাব দেয়। এক পর্যায়ে ২০২২ সালে ১৫ আগষ্ট রিফাত ভিকটিমকে তার মায়ের সাথেপরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে খালি বাসায় ডেকে নিয়ে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। 


পরবর্তীতে ভিকটিম বিয়ে দাবিতে আসামীর বাসায় অবস্থান করলে তার পরিবার ভিকটিমকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। 

আড়াইহাজারে ‘ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ও পরিবেশ দূষণ রোধে’ মানববন্ধন 

 

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ‘ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ও পরিবেশ দূষণ রোধে’ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।  শনিবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলার ব্রামন্দী ইউনিয়নের উৎরাপুর গ্রামের পাশে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। 


যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনের আয়োজক সংগঠন ছিল- পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), রিভারাইন পিপল, সুবর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশন, উৎরাপুর আদর্শ সমাজকল্যাণ সংঘ এবং পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ রক্ষা আন্দোলন। 


উৎরাপুর আদর্শ সমাজকল্যাণ সংঘের সভাপতি মো. নাদিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হামিদুল্লাহ সরকার। 


মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং পবা’র নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক কবি ও মানবাধিকার কর্মী শাহেদ কায়েস, রিভারাইন পিপল-এর সোনারগাঁ শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য লেখক শংকর প্রকাশ, একটিভিস্ট ও সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী শিমুল, উৎরাপুর আদর্শ সমাজকল্যাণ সংঘের সহ-সভাপতি মো. আলী আশরাফ, মো. ওমর ফারুক লিটন, মো. জোনায়েদ, মো. নাহিদ সরকার, মো. সজিব মিয়া, হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম খোকন, মো. মমতাজউদ্দিন মিয়া, মো. মাহবুবুর রহমান শোয়েব প্রমুখ।


মানববন্ধনে আলোচকরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন- সারা দেশে দখল-দূষণে দেশের বেশিরভাগ নদী স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হারিয়েছে অনেক আগেই। বর্তমানে নদী দখলের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, অনেক নদী মরা খালে পরিণত হয়েছে। 


আমাদের ব্রহ্মপুত্র নদের অবস্থা এর থেকে ভিন্ন কিছু নয়। সারা দেশের নদীগুলোর মতো ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ দূষণের বিষয়টিও বহুল আলোচিত। দেশে বিভিন্ন নদীর পানি কতটা দূষণের শিকার, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলোর দিকে তাকালেই তা স্পষ্ট হয়। 


এই অঞ্চলের আশে-পাশের শিল্প-কারখানার বর্জ্য পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানিতে ফেলে এই ভয়াবহ দূষণের সৃষ্টি করা হচ্ছে। অপরিশোধিত তরল বর্জ্য নদীগুলোকে গ্রাস করছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র ধ্বংস হচ্ছে। 


এ দূষিত পানি ব্যবহারের কারণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ১৫ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, সোনারগাঁ ও বন্দর উপজেলার এক হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দূষণ করছে। 


এতে ব্রহ্মপুত্র নদ মাছসহ জলজপ্রাণীশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা কৃষিসেচেও নদের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। প্রয়োজনে কেউ নদীতে নামলে বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। নদীতে মাছ না থাকায় স্থানীয় জেলেরাও তাদের কাজ হারিয়েছেন। বছরের পর বছর ধরে এমন দূষণ চললেও নদী রক্ষা কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন সবকিছু জেনে শুনে নির্বিকার থাকছে। 


আড়াইহাজার ও সোনারগাঁ অঞ্চলটি দেশের অন্যতম আর্সেনিক প্রবণ এলাকা। শত বছর ধরে এই এলাকার মানুষ মেঘনা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানির উপর নির্ভরশীল ছিল। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের ক্রমাগত দূষণের ফলে এই এলাকার কৃষিকাজ থেকে শুরু করে সব কাজেই ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার বেড়েছে। 


এতে স্থানীয় মানুষের উপর আর্সেনিকের প্রভাবও বাড়ছে। নদের মাছ হারিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় জেলে ও দরিদ্র মানুষ বড় ধরনের সঙ্কটে পড়েছে উল্লেখ করে তাঁরা  বলেন, শতাধিক জেলে পরিবার কেবল পুরোনো ব্রহ্মপুত্রে মাছ শিকার করে তাদের সংসার চালাতো। 


ব্রহ্মপুত্রে মাছ শিকার করে স্থানীয় দরিদ্র মানুষ পুষ্টি চাহিদা পূরণ করতো। তাছাড়া, এলাকায় হাঁস পালনে নদের ঝিনুক ও শামুকই ছিল একমাত্র ভরসা। পানি দূষণের কারনে মাছের সঙ্গে নদী থেকে শামুক ঝিনুকও হারিয়ে গেছে। ব্যঙ, সাপসহ বিভিন্ন প্রাণী হারিয়ে যাওয়ায় পরিবেশে এর বিরুপ প্রভাব পড়েছে।


তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, আধিকাংশ ডাইয়িং কোম্পানি ও শিল্প-কারখানায় পানি পরিশোধন যন্ত্র নেই, কোনো কোনো কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন যন্ত্র থাকলেও, বর্জ্য পরিশোধন না করে সরাসরি তা ফেলে দেয়া হয় নদীর পানিতে। 


এতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ আমাদের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করছে। কোনো কোনো রাসায়নিক পদার্থ মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। 


শাহেদ কায়েস তার বক্তব্যে বলেন, 'সারাদেশেই নদীগুলোকে হত্যা করা হচ্ছে। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রও এর বাইরে নয়। সমাজের প্রতিটি মানুষকেই এসব নদী রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'


.মানববন্ধনে বক্তারা স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারের কাছে দাবি জানান, শিল্প-কারখানার রাসায়নিক পদার্থের সামান্য অংশও যাতে আমাদের খাদ্যচক্রে প্রবেশ করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।


 এ অবস্থায় ব্রহ্মপুত্র নদ দূষণ রোধে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সারা দেশের শিল্প-কারখানায় এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান অনিয়মগুলো খুঁজে বের করতে দেরি করা হলে দেশের বিভিন্ন নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় দূষণ ছড়িয়ে পড়বে। ব্রহ্মপুত্রসহ দেশের সব নদীর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

এক-দুই মাসের মধ্যেই ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ট্রেন চলবে : রেলমন্ত্রী

 

রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেছেন, সব যানবাহনে ভাড়া বাড়লেও ট্রেনের ভাড়া বাড়েনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এটা সেবামূলক। সাধারণ মানুষের আরামদায়ক চলাচলের কথা চিন্তা করেই কাজ করা হচ্ছে।

 

ঢাকা থেকে পদ্মা লিংক প্রোজেক্টের জন্য ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ট্রেন রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমার মনে হয় এক দুই মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন আমরা ট্রেন খুলে দিতে পারবো।


শনিবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চাষাড়া রেলস্টেশন ও নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী লেভেল ক্রসিং গেট টি২ এবং টি১ পর্যন্ত ডুয়েল গেজ ডাবল লাইন নির্মাণে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা সরেজমিনে পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।


মন্ত্রী বলেন, আজকের পরিদর্শনের মূল বিষয় আমাদের সমন্বয়ের কিছু বিষয় ছিল। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আমাদের কিছু জায়গা ফার্স্ট গেট থেকে স্টেশন পর্যন্ত। ডাবল লাইন যেহেতু হচ্ছে, আমাদের এখানে কিছু জায়গা শর্ট পড়ছিল। 


সড়কের কিছু অংশ যদি রেললাইনের দাগে আসে তাহলে এ অসুবিধাটা আর হয় না। এগুলো দেখে বাস্তবে এমন ধারণা ছিল যে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মেয়রের সঙ্গে বৈঠকে আমি বলি যে দুজনে মিলে সরেজমিনে দেখি কতটুকু প্রভাব পড়ছে। সেটা দেখতেই আজকে এখানে আসা। রেলের প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারাও এখানে আছেন।


মন্ত্রী বলেন, থিওরিটিকালি এ কাজটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। আমার মনে হয় সেটা হবে না। এ রেললাইন নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্যেই হচ্ছে। এ ডাবল লাইন হলে প্রতিদিন কমপক্ষে পঞ্চাশটি ট্রেন চলতে পারবে। আমি মেয়র আইভীকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি এসেছেন এখানে। আমরাও মাঠের কর্মী। জনগণের সমস্যা সমাধানে আমরা এখানে এসেছি।


বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার নষ্ট করেছে। তবে এখন তারা গণতন্ত্রের কথা বলে নির্বাচনী পবিবেশকে গরম করছে। তাদের সম্পর্কে এ দেশের মানুষ জানে।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ছাড়াও এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান, প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রউফসহ রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের বিভান্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।